Home Blog

Indian Ministry of Railways পশ্চিমবঙ্গের জন্য একাধিক রেল প্রকল্প অনুমোদন

Indian Ministry of Railways পশ্চিমবঙ্গের জন্য একাধিক সংযোগ প্রকল্পের ঢালাও অনুমোদন

Indian Ministry of Railways has Approved Multiple Connectivity Projects for West Bengal

পশ্চিমবঙ্গের জন্য একাধিক রেল প্রকল্প অনুমোদন ভারতীয় রেল মন্ত্রকের

নিজস্ব সংবাদদাতা-কলকাতা: ভারতীয় রেল মন্ত্রক (Indian Ministry of Railways) পশ্চিমবঙ্গের জন্য একাধিক সংযোগ প্রকল্প অনুমোদন করেছে, যার মধ্যে একটি নতুন জয়পুরগামী ট্রেন এবং রাজ্যজুড়ে গুরুত্বপূর্ণ রেল পরিকাঠামোর আধুনিকীকরণ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

পশ্চিমবঙ্গে মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে বিজেপি সরকার গঠনের এক সপ্তাহ কালে, মাননীয় কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব (Ashwini Vaishnaw) মহাশয় পশ্চিমবঙ্গে রাজ্য সরকারকে একাধিক রেল প্রকল্পের অনুমোদনের বিষয়ে অবহিত করেছেন। এই প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে একটি নতুন কলকাতা-জয়পুর ট্রেন পরিষেবা, শালিমার ও অযোধ্যার মধ্যে তৃতীয় রেললাইন স্থাপনের সমীক্ষা এবং নিউ জলপাইগুড়ি-শিলিগুড়ি করিডোরে রেললাইন দ্বৈতকরণের কাজ।

পশ্চিমবঙ্গের উন্নয়নে ডাবল ইঞ্জিন সরকারের ঢালাও পদক্ষেপ

ভারতীয় রেল মন্ত্রকের পক্ষ থেকে মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে উদ্দেশ্য করে পাঠানো পৃথক পৃথক চিঠির মাধ্যমে এই অনুমোদনের বিষয়গুলি জানানো হয়। এই পদক্ষেপগুলোকে রাজ্যে নবগঠিত বিজেপি সরকারের জন্য পরিকাঠামো উন্নয়নের ক্ষেত্রে একটি প্রাথমিক ও জোরালো উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে; যার মূল লক্ষ্য হলো দক্ষিণ ও উত্তরবঙ্গের মধ্যে রেল যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি ঘটানো।

গুরুত্বপূর্ণ অনুমোদনের তালিকায় – জয়পুরগামী ট্রেন ও অযোধ্যা সমীক্ষা

উক্ত চিঠিগুলোর একটিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, রেল মন্ত্রক খড়গপুরের ওপর দিয়ে কলকাতার সাঁতরাগাছি এবং জয়পুরের খাতিপুরার মধ্যে একটি নতুন ট্রেন পরিষেবা অনুমোদন করেছে। ওই চিঠিতে জানানো হয়েছে যে, রেল যোগাযোগ ব্যবস্থা জোরদার করার লক্ষ্যে আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে খড়গপুরের ওপর দিয়ে চলাচলকারী ১৮০৬১ ও ১৮০৬২ নম্বর সাঁতরাগাছি-বানারিপাড়া এক্সপ্রেস ট্রেন দুটির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রক হাওড়ার সাঁতরাগাছি এবং জয়পুরের খাতিপুরার মধ্যে একটি নতুন সাঁতরাগাছি-খাতিপুরা এক্সপ্রেস (১৮০৬১/১৮০৬২) সাপ্তাহিক ট্রেন পরিষেবা অনুমোদন করেছে।

এই রুটটি পশ্চিমবঙ্গ, ঝাড়খণ্ড এবং রাজস্থানের মধ্যে সংযোগ স্থাপন করবে। প্রতি বুধবার দুপুর ২:১৫ মিনিটে সাঁতরাগাছি থেকে ছেড়ে এটি পরের দিন রাত ১১:০০ টায় খাতিপুরা পৌঁছাবে। ট্রেনটি সাঁতরাগাছি থেকে ছেড়ে খড়্গপুর, টাটানগর, রাঁচি, প্রয়াগরাজ, কানপুর, আগ্রা এবং বান্দিকুই হয়ে জয়পুরের খাতিপুরায় পৌঁছাবে। ফেরার পথে, খাতিপুরা থেকে শুক্রবার সকাল ৯:২০ মিনিটে রওনা হয়ে শনিবার সন্ধ্যা ৭:৪৫ মিনিটে সাঁতরাগাছি পৌঁছাবে।

এর ফলে হাওড়া স্টেশনের ওপর চাপ কমানোর পাশাপাশি এই রুটটি দক্ষিণবঙ্গ ও ঝাড়খণ্ডের যাত্রীদের সরাসরি রাজস্থানে যাতায়াত অনেক সহজ করবে। বিশেষ করে রাজস্থানে কর্মরত শ্রমিক, ব্যবসায়ী এবং পর্যটকদের জন্য এটি অত্যন্ত উপযোগী হবে।

আরেকটি চিঠিতে বৈষ্ণব মুখ্যমন্ত্রী অধিকারীকে জানান যে, শালিমার ও অযোধ্যার মধ্যে প্রস্তাবিত তৃতীয় রেললাইনটির ‘বিস্তারিত প্রকল্প প্রতিবেদন’ (DPR) তৈরির লক্ষ্যে ‘চূড়ান্ত স্থান সমীক্ষা’ (Final Location Survey) চালানোর অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

প্রস্তাবিত এই রেলপথটির দৈর্ঘ্য প্রায় ১০৭ কিলোমিটার এবং আশা করা হচ্ছে যে, ভবিষ্যতে পশ্চিমবঙ্গের রেল সম্প্রসারণ পরিকল্পনায় এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠবে। প্রকল্পটি বাস্তবায়নের আগে এই সমীক্ষাকে একটি প্রাথমিক, তবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

নিউ জলপাইগুড়ি-শিলিগুড়ি রেললাইন দ্বৈতকরণ (Doubling)

মাননীয় কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী উত্তরবঙ্গের নিউ জলপাইগুড়ি-শিলিগুড়ি রেললাইনে দ্বৈতকরণের (Doubling) কাজ শুরু করার অনুমোদনের বিষয়টিও নিশ্চিত করেছেন।

এই প্রকল্পটি প্রায় ৭.১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ একটি অংশ জুড়ে বিস্তৃত এবং এর মূল উদ্দেশ্য হলো পূর্ব ভারতের অন্যতম ব্যস্ত এই রেল করিডোরে যানজট কমানো ও ট্রেনের চলাচল আরও মসৃণ করা। উত্তর-পূর্ব ভারত এবং উত্তরবঙ্গ অঞ্চলের মধ্যে রেল যোগাযোগ স্থাপনের ক্ষেত্রে নিউ জলপাইগুড়ি (NJP)-শিলিগুড়ি অংশটি কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

উল্লিখিত তিনটি চিঠিতেই পশ্চিমবঙ্গের রেল পরিকাঠামো ও সংযোগ প্রকল্পগুলো নিয়ে পূর্বে অনুষ্ঠিত আলোচনার প্রসঙ্গ উল্লেখ করা হয়েছে। উল্লিখিত চিঠিগুলো সরাসরি মুখ্যমন্ত্রীর পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দীগ্রামে অবস্থিত দপ্তরে পাঠানো হয়েছে।

R.G. Kar Doctor Case নিয়ে অনিশ্চয়তা কলকাতা হাইকোর্টে – নতুন বেঞ্চ ঠিক করবেন প্রধান বিচারপতি

R. G. Kar Doctor Case নিয়ে অনিশ্চয়তা কলকাতা হাইকোর্টে – নতুন বেঞ্চ ঠিক করবেন প্রধান বিচারপতি

R G Kar Doctor Case Uncertainty in Kolkata High Court
R. G. Kar Doctor Case নিয়ে অনিশ্চয়তা কলকাতা হাইকোর্টে – নতুন বেঞ্চ ঠিক করবেন প্রধান বিচারপতি

R.G. Kar Doctor Case আরজি কর হাসপাতালের চিকিৎসক খুনের মামলাকে ঘিরে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হল কলকাতা হাইকোর্টে

নিজস্ব সংবাদদাতা – কলকাতা: ২০২৪ সালের আগস্টে কলকাতার আরজি কর (R.G. Kar) হাসপাতালের তরুণী চিকিৎসক খুন ও ধর্ষণ মামলার ভবিষ্যৎ কলকাতা হাইকোর্টে নতুন করে অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। মামলাটি শুনানির তালিকা থেকে সরিয়ে নিয়েছেন বিচারপতি দেবাংশু বসাক এবং বিচারপতি মহম্মদ শাব্বর রশিদির ডিভিশন বেঞ্চ। বেঞ্চের মতে, এটি এখন তাদের বিচার্য বিষয় নয়, ফলে মামলাটি প্রধান বিচারপতির কাছে পাঠানো হয়েছে।

বিচারপতি দেবাংশু বসাক (Justice Debangshu Basak) এদিন জানান, মামলাটি শুনানির জন্য আদালতে একাধিকবার উল্লেখ করা হয়েছে। প্রধান বিচারপতির কাছেও ই-মেল পাঠিয়ে বিষয়টি জানানো হয়েছিল। তবে মামলাটি দীর্ঘদিন ধরে চলছে এবং এতে একাধিক দিক রয়েছে। সব দিক খতিয়ে দেখতে সময় লাগবে। তাই এই বেঞ্চে দ্রুত শুনানি শেষ করা সম্ভব নয় বলেই মনে করছে আদালত। সেই কারণেই সংশ্লিষ্ট সব মামলা অন্য বেঞ্চে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এখন এই মামলার পরবর্তী শুনানি কোন বেঞ্চে হবে, তা ঠিক করবেন হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি। আদালতের এই সিদ্ধান্তের পর নতুন করে আবার মামলার তালিকা তৈরি করা হবে বলে জানা গেছে।

R.G. Kar Doctor Case মুখ্য বিষয়সমূহ:

বেঞ্চ থেকে সরে দাঁড়ানো: বিচারপতি দেবাংশু বসাকের নেতৃত্বাধীন ডিভিশন বেঞ্চ এই চাঞ্চল্যকর মামলার শুনানি থেকে সরে দাঁড়িয়েছে।

অনিশ্চয়তা ও বিলম্ব: মামলার দ্রুত শুনানির আবেদন করা হলেও, বেঞ্চ সরে দাঁড়ানোয় এবং নতুন বেঞ্চ ঠিক হওয়ার অপেক্ষায় মামলার ভবিষ্যৎ আরও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

মামলার ধরণ: এই বেঞ্চে অভিযুক্ত সঞ্জয় রায়ের সর্বোচ্চ সাজা (মৃত্যুদণ্ড) চেয়ে সিবিআই ও নিহতের পরিবারের আবেদনের পাশাপাশি অন্যান্য আনুষঙ্গিক বিষয়গুলিও বিচারাধীন ছিল।

পরবর্তী পদক্ষেপ: মামলাটি এখন প্রধান বিচারপতি সুজয় পালের কাছে পাঠানো হয়েছে, যিনি শীঘ্রই শুনানির জন্য নতুন বেঞ্চ নির্ধারণ করবেন।

গত ৯ আগস্ট ২০২৪-এ আরজি কর হাসপাতালের সেমিনার হল থেকে চিকিৎসক তরুণীর মৃতদেহ উদ্ধার হয়, যার পর থেকে দীর্ঘ সময় ধরে এই মামলার আইনি লড়াই চলছে।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৯ আগস্ট আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে এক তরুণী চিকিৎসকের দেহ উদ্ধার হয়। ঘটনাটি সামনে আসতেই ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। অভিযোগ ওঠে, ওই চিকিৎসককে ধর্ষণের পর খুন করা হয়েছে। এই ঘটনায় সঞ্জয় রায় নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয় এবং পরে নিম্ন আদালত তাকে দোষী সাব্যস্ত করে আজীবন কারাদণ্ডের নির্দেশ দেয়।

তবে এই রায়ে সন্তুষ্ট নন নিহত চিকিৎসকের বাবা-মা। তাদের দাবি, তদন্তে এখনও অনেক প্রশ্নের উত্তর মেলেনি। তাদের মতে, ঘটনায় আরও কেউ জড়িত থাকতে পারে এবং আসল অপরাধীদের খুঁজে বের করা দরকার। পাশাপাশি ঘটনাস্থল থেকে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ নষ্ট হয়ে যাওয়ার অভিযোগও তোলেন তারা।

এই সব অভিযোগের ভিত্তিতে চিকিৎসকের পরিবার হাইকোর্টে নতুন করে মামলা দায়ের করে। সেই মামলাতেই তদন্তের গতি বাড়ানো এবং পুরো ঘটনার পুনরায় খতিয়ে দেখার দাবি জানানো হয়। কিন্তু এখন সেই মামলাসহ সংশ্লিষ্ট অন্য সব মামলা থেকে সরে দাঁড়িয়েছে বিচারপতি দেবাংশু বসাকের ডিভিশন বেঞ্চ। ফলে মামলার পরবর্তী ধাপ কী হবে, তা নিয়ে এখন নজর রয়েছে আদালতের পরবর্তী সিদ্ধান্তের দিকে।

কয়লা পাচার মামলায় আবারও পুলিশ অফিসার মনোরঞ্জন মণ্ডলের বাড়িতে ইডির হানা

কয়লা পাচার মামলায় আবারও পুলিশ অফিসার মনোরঞ্জন মণ্ডলের বাড়িতে ইডির হানা

ED Raids Police Officer Manoranjan Mondal’s House

কলকাতা, ১১ মার্চ — পশ্চিমবঙ্গে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে আবারও তৎপর হয়েছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি) Enforcement Directorate (ED)। বুধবার ইডি কর্মকর্তারা পুলিশ অফিসার মনোরঞ্জন মণ্ডল-এর বাড়িতে তল্লাশি চালান।

মামলার পটভূমি

এর আগে ৩ ফেব্রুয়ারি মনোরঞ্জনের বাড়িতে হানা দিয়েছিল ইডি। অভিযোগ, তিনি কয়লা ও বালি পাচার চক্রের মধ্যে দালালি করতেন এবং সুরক্ষা বাবদ টাকা নিতেন। ইডির হাতে ধৃত কয়লা ব্যবসায়ী চিন্ময় মণ্ডল-এর সঙ্গে মনোরঞ্জনের হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই তিনি তদন্তকারীদের নজরে আসেন। যদিও বারবার সিজিও কমপ্লেক্সে হাজিরার নোটিশ পাঠানো হলেও অসুস্থতার অজুহাতে তিনি এড়িয়ে যান।

ইডির এক কর্মকর্তা বলেন, “কয়লা পাচার মামলায় বিপুল অঙ্কের সুরক্ষা টাকা লেনদেন হয়েছে। এই পুলিশ অফিসারকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যেতে পারে।”

ইডির ধারাবাহিক অভিযান

গত ৩ ফেব্রুয়ারি রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় ইডি তল্লাশি চালায়। রানিগঞ্জ ও জামুড়িয়ায় এক ব্যবসায়ীর গুদাম থেকে প্রায় ১.৫ কোটি টাকা নগদ উদ্ধার হয়। ওই দিনই মনোরঞ্জন মণ্ডলের বাড়িতেও তল্লাশি হয়। তখন তিনি ছিলেন বুদবুদ থানার ওসি। পরে তাঁকে বদলি করে আসানসোল দুর্গাপুর পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চে পাঠানো হয়।

একই দিনে ইডি প্রবীর দত্ত নামে এক বালি ব্যবসায়ীর বাড়িতেও হানা দেয়। বুধবার আবারও তাঁর সেপকো, সিটি সেন্টারের বাড়িতে তল্লাশি চালানো হয়।

রাজনৈতিক বিতর্ক ও প্রভাব

কয়লা পাচার মামলা ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক বিতর্ক সৃষ্টি করেছে। এর আগে ইডি এআইপিএসি নেতা প্রতীক জৈন-এর বাড়ি ও দলীয় কার্যালয়ে তল্লাশি চালায়। সেই মামলা গিয়ে পৌঁছায় হাইকোর্ট ও সুপ্রিম কোর্টে। এরপর ইডি-র ডিরেক্টর রাহুল নবীন কলকাতায় এসে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করেন এবং কয়লা ও বালি পাচারসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ মামলার তদন্ত দ্রুততর করার নির্দেশ দেন।

জনমতের প্রতিক্রিয়া

নির্বাচনের আগে ইডির এই ধারাবাহিক অভিযানকে অনেকেই রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন। বিরোধীরা অভিযোগ তুলছে যে কেন্দ্রীয় সংস্থা রাজ্যে শাসক দলের বিরুদ্ধে চাপ বাড়াতে চাইছে। অন্যদিকে, সাধারণ মানুষ মনে করছেন যে কয়লা ও বালি পাচারের মতো অবৈধ ব্যবসার বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।

ED Raids Police Officer Manoranjan Mondal’s House Again in Coal Smuggling Case

National Youth Day Celebrated on Swami Vivekananda’s Birthday

National Youth Day Celebrated on Swami Vivekananda’s Birthday

National Youth Day Celebrated on Swami Vivekananda's Birthday

National Youth Day: জাতীয় যুব দিবস—স্বামী বিবেকানন্দের জন্মবার্ষিকী স্মরণে

ভূমিকা

ভারতে প্রতি বছর ১২ই জানুয়ারি মহান প্রভাবশালী দার্শনিক ও আধ্যাত্মিক নেতা স্বামী বিবেকানন্দের জন্মবার্ষিকী স্মরণে জাতীয় যুব দিবস (রাষ্ট্রীয় যুব দিবস) পালন করা হয়। এই দিনে তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয় এবং যুবশক্তির সম্ভাবনার প্রতি তাঁর গভীর বিশ্বাসকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। আত্মবিশ্বাস, শৃঙ্খলা এবং নিঃস্বার্থ সেবার মাধ্যমে জাতি গঠনে তরুণদের অনুপ্রাণিত করাই এর উদ্দেশ্য। এই উদযাপনে তাঁর কালজয়ী আদর্শের উপর ভিত্তি করে বিভিন্ন অনুষ্ঠান, বক্তৃতা এবং প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। ভারত সরকার ১৯৮৪ সালে প্রথম এই দিনটিকে ঘোষণা করে।

জাতীয় যুব দিবসের মূল দিকসমূহ:

  • তারিখ: ১২ই জানুয়ারি, ১৮৬৩ সালে স্বামী বিবেকানন্দের জন্মকে স্মরণ করে।
  • উদ্দেশ্য: বিবেকানন্দের শিক্ষা প্রচার করা, যুবকদের ক্ষমতায়ন করা এবং জাতীয় উন্নয়নে তাদের ভূমিকাকে উৎসাহিত করা।
  • তাৎপর্য: তাঁর শক্তিশালী, প্রগতিশীল ভারতের স্বপ্নকে তুলে ধরা, যা তার উদ্যমী যুবকদের দ্বারা পরিচালিত হবে।
  • উদযাপন: স্কুল, কলেজ এবং বিভিন্ন সংস্থা আত্মনির্ভরশীলতা ও ঐক্যের বার্তা ছড়িয়ে দিতে প্যারেড, বক্তৃতা, রচনা প্রতিযোগিতা এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

জাতীয় যুব দিবসের তাৎপর্য

  • স্বামী বিবেকানন্দকে সম্মান জানানো: এই দিনটি বিবেকানন্দের জন্মকে (জন্ম ১২ জানুয়ারি, ১৮৬৩) স্মরণ করে, যাঁর জীবনধারা এবং আত্মবিশ্বাস, শৃঙ্খলা ও সেবার শিক্ষা ভারতের যুবকদের জন্য এক বিশাল অনুপ্রেরণা হয়ে আছে।
  • যুব ক্ষমতায়ন: এর লক্ষ্য হলো ১৫-২৯ বছর বয়সী তরুণদের শক্তি ও সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে ভারতের অগ্রগতি ও উন্নয়নে অবদান রাখা।
  • জাতি গঠন: এই উদযাপন যুবকদের বিবেকানন্দের আদর্শ অনুসরণ করতে উৎসাহিত করে, যাতে একটি শক্তিশালী, আধ্যাত্মিকভাবে উন্নত এবং বিশ্বব্যাপী নেতৃত্বদানকারী ভারত গড়ে ওঠে।
  • সরকারি উদ্যোগ: ভারত সরকার (Government of India) ১৯৮৪ সালে ১২ই জানুয়ারিকে জাতীয় যুব দিবস (National Youth Day) হিসেবে ঘোষণা করে, যা জাতিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।

কীভাবে উদযাপন করা হয়

সারা দেশ জুড়ে সেমিনার, যুব সম্মেলন এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মতো বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়, যেখানে বিবেকানন্দের জীবনধারা (Lifestyle), দর্শন এবং যুবকদের প্রতি তাঁর বার্তার উপর আলোকপাত করা হয়। ভারতবর্ষের সকল রাজ্য জুড়ে স্কুল, কলেজ এবং যুব সংগঠনগুলো বিভিন্ন অনুষ্ঠান, সেমিনার এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। ব্যক্তিগত বিকাশ এবং সামাজিক অবদানের বিষয়ে বিবেকানন্দের বার্তার উপর জোর দেওয়া হয়।

এটি দেশের ভবিষ্যৎ গঠনে তরুণ নাগরিকদের ভূমিকা ও দায়িত্ব নিয়ে ভাবার একটি সুযোগ হিসেবে কাজ করে।

স্বামী বিবেকানন্দের মূল শিক্ষা: যুবকদের জন্য

  • আত্মবিশ্বাস: “ওঠো, জাগো এবং লক্ষ্যে না পৌঁছানো পর্যন্ত থেমো না”।
  • চরিত্র গঠন: শক্তিশালী নৈতিক চরিত্র এবং সততার উপর জোর দিয়েছেন।
  • মানবতার সেবা: নিঃস্বার্থ সেবার (সেবা) পক্ষে কথা বলেছেন। জাতি গঠন: তরুণদের একটি উন্নত ভারতের ভিত্তি স্তম্ভ হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

১৯৮৪ সালে দেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই রাজীব গান্ধী ঘোষণা করেন যে, স্বামী বিবেকানন্দের জন্মবার্ষিকী জাতীয় যুব দিবস হিসেবে পালিত হবে। ১৯৮৫ সালের ১২ই জানুয়ারি, নতুন দিল্লিতে বিজ্ঞান ভবনে একটি জমকালো অনুষ্ঠানের আয়োজনের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রথম জাতীয় যুব দিবস উদযাপন করে।

তিন বছর পর, ১৯৮৮ সালের ১২ই জানুয়ারি, আমাদের দেশের সর্বকনিষ্ঠ প্রধানমন্ত্রী তাঁকে এক উপযুক্ত শ্রদ্ধাঞ্জলি জ্ঞাপন করেন: “তিনি ছিলেন অফুরন্ত প্রাণশক্তির অধিকারী একজন মানুষ। তাঁর ব্যক্তিত্ব ছিল চৌম্বকীয় এবং উপস্থিতি ছিল অসাধারণ। তিনি ছিলেন এক অসাধারণ বাগ্মী। তাঁকে সন্ন্যাসীর বেশে এক ঘূর্ণিঝড় হিসেবে বর্ণনা করা যেতে পারে— আমাদের স্বাধীনতা, মানবিক সমতা, ধর্মনিরপেক্ষতা, আত্মনির্ভরশীলতার মতো জাতীয় নীতিগুলোর বিকাশে তিনি এক গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছিলেন।”

প্রাসঙ্গিকতা—বর্তমান সময়ের নিরিখে

বর্তমান প্রতিযোগিতামূলক যুগে হতাশা এবং লক্ষ্যহীনতা তরুণ প্রজন্মের প্রধান শত্রু। আসুন আমরা স্বামী বিবেকানন্দের উদ্দীপনাময় বার্তা—”ওঠো, জাগো এবং লক্ষ্য অর্জন না হওয়া পর্যন্ত থামো না”— থেকে শক্তি সঞ্চয় করে তরুণ প্রজন্মের লক্ষ্যহীনতা এবং হতাশা দূর করতে সচেষ্ট হই। চরিত্র গঠন, ভক্তি এবং গতিশীল কর্মের ক্ষেত্রে আমাদের দেশের যুবকদের জন্য তাঁর চেয়ে ভালো পথপ্রদর্শক আর কেউ হতে পারে না।” এই দিনটি আমাদের দেশের তরুণদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ অনুস্মারক হিসেবে কাজ করে, যাতে তারা তাদের অপরিমেয় সম্ভাবনাকে ব্যক্তিগত বিকাশে এবং জাতির জন্য একটি উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ গঠনে কাজে লাগাতে পারে।

PM Modi’s Helicopter তাহেরপুরে নামতে পারল না, কলকাতা থেকেই অডিয়ো বার্তায় তাঁর ভাষণ

PM Modi’s Helicopter নদিয়ার তাহেরপুরে নামতে পারল না, কলকাতা থেকেই অডিয়ো বার্তায় তাঁর ভাষণ

PM Modi's Helicopter Not Landed at Taherpur Due to Dense Fog

PM Modi’s Helicopter তাহেরপুরে নামতে পারল না ঘন কুয়াশার কারণে, অডিয়ো বার্তায় তাঁর ভাষণ

নিজস্ব সংবাদদাতা কলকাতা: খারাপ আবহাওয়ার কারণে ভেস্তে গেল নদিয়া জেলার রানাঘাট লোকসভা কেন্দ্রের তাহেরপুরের সভায় মোদী দর্শন। এ দিন তাহেরপুরে কুয়াশার কারণে অবতরণ করতে পারেনি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর কপ্টার। পুনরায় কলকাতায় ফিরে আসতে হয়েছে প্রধানমন্ত্রীকে। যদিও তারপরে সড়কপথে তাহেরপুর পৌঁছনোর কথা ছিল প্রধানমন্ত্রীর। সেই বিষয়ে প্রস্তুতিও নেওয়াও হয়েছিল, পরিকল্পনা করা হয়েছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সশরীরে তাহেরপুর পৌঁছতে পারলেন না প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। কলকাতা থেকেই অডিয়ো বার্তায় তাঁর ভাষণ শুনল তাহেরপুরের জমায়েত।

ঘন কুয়াশার কারণে শনিবার তাহেরপুরে নামতে পারল না প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর হেলিকপ্টার। তা ফিরে এসেছে কলকাতা বিমানবন্দরে। জানা যায়, তিনি বেলা সাড়ে ১২টার সময়ে কলকাতা বিমানবন্দরেই রয়েছেন। সূত্রের খবর, সড়কপথে তাহেরপুরে পৌঁছতে পারেন মোদী। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সশরীরে তাহেরপুর পৌঁছতে পারলেন না নরেন্দ্র মোদী খারাপ আবহাওয়ায়। কলকাতা থেকেই অডিয়ো বার্তায় তাঁর ভাষণ শুনল তাহেরপুরের জমায়েত।

আজ শনিবার নদিয়ার রানাঘাট লোকসভা কেন্দ্রের তাহেরপুরে প্রশাসনিক এবং রাজনৈতিক সভা করার কথা ছিল প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর। সেই জন্য সকাল থেকেই জমা হতে শুরু করেছিল দলীয় নেতা, কর্মী ও সমর্থকেরা এবং এলাকার আপামর জনগন।

তাহেরপুরের নেতাজি পার্ক ময়দানে মোদীর সভাস্থলের অদূরেই তৈরি করা হয়েছিল একটি অস্থায়ী হেলিপ্যাড। সেখানেই অবতরণ করানোর কথা ছিল প্রধানমন্ত্রীর কপ্টারটি। এ দিন সকাল ১০টা ৩৩ মিনিটে কলকাতা বিমানবন্দরে এসে পৌঁছান তিনি। রাজ্যের তরফে তাঁকে সেখানে স্বাগত জানান মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য এবং মুখ্যসচিব মনোজ পন্থ। এর পরে হেলিকপ্টারে করে তাহেরপুর রওনা দেন মোদী। কিন্তু এ দিন সকাল থেকেই সংশ্লিষ্ট এলাকা কুয়াশায় ঢাকা রয়েছে। দৃশ্যমানতা একেবারে কম থাকার কারণে কপ্টারটি পুনরায় ফিরে আসে কলকাতাতেই।

সূত্রের খবর, তিনি সড়ক পথেই যাচ্ছেন নদিয়ার তাহেরপুরে কিন্তু তা আর সম্ভব হয়ে উঠলো না ঘন কুয়াশার কারণে। সেখানে তাহেরপুরের রাজনৈতিক মঞ্চে বক্তব্য রাখেন রাজ্য বিজেপির প্রথম সারির নেতারা। অবশেষে তাহেরপুরের জনসভায় রাজ্য বিজেপির সভাপতি জানিয়ে দেন ভার্চুয়ালি বক্তব্য রাখবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।

তাহেরপুর থেকে প্রায় ৩২০০ কোটি টাকার উন্নয়নমূলক প্রকল্পের উদ্বোধন এবং শিলান্যাস করবেন বলে কথা ছিল মোদীজির। পাশাপাশি এ দিন রাজনৈতিক সভাতেও বক্তব্য রাখার কথা ছিল প্রধানমন্ত্রীর।

Prime Minister Modi’s helicopter could not land in West Bengal at Taherpur due to dense fog.

পশ্চিমবঙ্গের যোগ্য চাকরিহারা শিক্ষকদের চাকরির মেয়াদ বৃদ্ধি সুপ্রিম কোর্টের

পশ্চিমবঙ্গের SSC দ্বারা নিযুক্ত যোগ্য চাকরিহারা শিক্ষকদের চাকরির মেয়াদ বৃদ্ধি আগামী ২০২৬ এর ৩১শে আগস্ট পর্যন্ত

Supreme Court Extends,
State: West Bengal
Untainted Teachers Job

Supreme Court Extends the Service Tenure of 'Untainted' Teachers

পশ্চিমবঙ্গের (West Bengal) ‘যোগ্য’ চাকরিহারা শিক্ষকদের চাকরির মেয়াদ বৃদ্ধি সুপ্রিম কোর্টের

নিজস্ব সংবাদদাতা—কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গের ‘যোগ্য’ চাকরিহারা শিক্ষকদের চাকরির মেয়াদ বৃদ্ধি সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে আগামী বছরের ৩১শে আগষ্ট পর্যন্ত।

নবম দশম ও একাদশ ও দ্বাদশের শিক্ষক নিয়োগের জন্য সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court) রাজ্য সরকার ও স্কুল সার্ভিস কমিশনকে (SSC) আগামী ২০২৬ এর ৩১শে আগস্ট পর্যন্ত সময় দিয়েছে। ততদিন পর্যন্ত যোগ্য শিক্ষকদের চাকরির মেয়াদ‌ও বাড়িয়ে দিল সুপ্রিম কোর্ট।

প্রকাশ থাকে যে, পশ্চিমবঙ্গের স্কুল সার্ভিস কমিশনের (WBSSC) বিগত ২০১৬ এর পরীক্ষায় নিযুক্ত ২৬০০০ চাকরির বাতিল করে দিয়ে সুপ্রিম কোর্ট দিয়ে দিয়েছিল। এবছরের ৩১শে ডিসেম্বরের মধ্যে নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ করতে হবে এবং ততদিন পর্যন্ত যাতে স্কুলে শিক্ষকের অভাব না হয়। তার জন্য চাকরিহারাদের মধ্যে ‘যোগ্য’ বলে চিহ্নিতদের‌ও ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত চাকরি করার অনুমতি দিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট।

কিন্তু উক্ত নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করা যাবে না বলে স্কুল সার্ভিস কমিশন, সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিল। একাদশ-দ্বাদশের জন্য অতিরিক্ত ১৫ দিন এবং নবম-দশমের জন্য অতিরিক্ত তিন মাস সময় তারা চেয়েছিল।

চাকরিহারা শিক্ষকদের স্বস্তি

সুপ্রিম কোর্টের এই দীর্ঘ আট মাস সময় দেওয়ার নির্দেশের ফলে সাময়িকভাবে যোগ্য চাকরিহারা শিক্ষকরাও কিছুটা হলেও স্বস্তি পেলেন।

সুপ্রিম কোর্টে বিচারপতি সঞ্জয় কুমার ও বিচারপতি অলক আরাধের বেঞ্চে রাজ্যের আইনজীবী নীরজ কিষেণ কৌল জানান, একাদশ এবং দ্বাদশ শ্রেণীর শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে আরও অন্তত মাস দুয়েক সময় লাগবে। নবম ও দশম শ্রেণীর শিক্ষক নিয়োগের কাউন্সিলিং শুরু হবে আগামী বছরের মার্চ মাস নাগাদ। বিচারপতি কারণ জানতে চান। কিষেণ কৌল বিচারপতিকে জানান, প্রচুর আবেদন খতিয়ে দেখতে হচ্ছে। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তের প্রার্থীদের ইন্টারভিউয়ে বসার ব্যবস্থা করতে হচ্ছে। তারপরে স্বাস্থ্যপরীক্ষা যাচাই রয়েছে। অনেক প্রার্থী এখন রাজ্যের বাইরে থাকছেন। তাঁদের পুলিশি যাচাই শেষ করতে হবে। তাঁদের নিয়োগ করতে জুন মাস হয়ে যাবে।

পশ্চিমবঙ্গের SSC দ্বারা নিযুক্ত ‘যোগ্য’ চাকরিহারাদের আইনজীবী পিএস পাটওয়ালিয়া আগামী ২০২৬ এর ৩১শে আগস্ট পর্যন্ত সময়সীমার আর্জি জানান। মূল মামলাকারীদের আইনজীবী বিকাশ ভট্টাচার্য মহাশয় আপত্তি তোলেন।

চাকরিহারা শিক্ষকদের প্রশ্ন থেকেই গেল

সুপ্রিম কোর্টের এই নির্দেশের পরে চাকরিহারা এক শিক্ষিকা বলেন মেয়াদ বাড়ল ঠিক আছে, কিন্তু চাকরির নিশ্চয়তা কি থাকলো? তাদের প্রশ্ন থেকেই গেল। নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাদের অনেকেই নথি যাচাইয়ে ডাক পাননি, ২০২৬ সালের ৩১শে আগস্ট এর পরে তাদের কি হবে। যোগ্য চাকরিহারা আর এক শিক্ষক বলেন, আমরা চাইছি যোগ্য চাকরিহারারা যেন কেউ বঞ্চিত না হন। আমাদের নজর সেদিকেই থাকবে।

Supreme Court Extends the Service Tenure of Untainted Teachers who Lost their Jobs in West Bengal

Calcutta High Court Directs WBSSC to Upload OMR sheets of SLST 2025

Calcutta High Court, WBSSC কে OMR সিট প্রকাশের নির্দেশ

Calcutta High Court Directs WBSSC to upload OMR Sheets of SLST 2025

নিজস্ব সংবাদদাতা- কলকাতা: Calcutta High Court পশ্চিমবঙ্গ স্কুল সার্ভিস কমিশন (WBSSC) কে ৯ম-১০ম এবং ১১-১২ শ্রেণীর জন্য রাজ্য স্তরের নির্বাচন পরীক্ষা (SLST) ২০২৫-এর জন্য অংশগ্রহণকারী সকল প্রার্থীর OMR শিট আপলোড করার নির্দেশ দিয়েছে এবং বলেছে যে নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু থেকেই স্বচ্ছ হতে হবে।

বিচারপতি অমৃতা সিনহা ২০১৬ সালের মেয়াদোত্তীর্ণ প্যানেল থেকে নিয়োগপ্রাপ্তদের একটি বিস্তারিত তালিকাও তলব করেছেন। বৃহস্পতিবার মামলায় তার পর্যবেক্ষণ – সেই তালিকায় নাম থাকা ব্যক্তিদের ভাগ্য মামলার রায়ের উপর নির্ভর করবে। তিনি বলেন যে এই নিয়োগ প্রক্রিয়াটি সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে করা হচ্ছে, তাই প্রক্রিয়ার প্রথম পর্যায় থেকেই স্বচ্ছতা বজায় রাখা গুরুত্বপূর্ণ। যেকোনো ধরণের অনিয়ম দূরে রেখে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব OMR শিট প্রকাশ করা উচিত।

‘দাগি’ প্রার্থীদের আবার পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া সহ বেশ কিছু সুবিধা হয়েছে। সেই সমস্ত অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে, গত বুধবার সুপ্রিম কোর্টকে একবার WBSSC-কে তিরস্কার করতে হয়েছিল। সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণ – তারা নতুন প্রার্থীদের যোগ্যদের সাথে পরীক্ষায় বসতে বলেনি। WBSSC জটিলতা তৈরি করেছে। সুপ্রিম কোর্ট ‘দাগি’ প্রার্থীরা যাতে পরীক্ষায় বসতে না পারে তা নিশ্চিত করতেও বলেছে। শীর্ষ আদালত চলমান নিয়োগ মামলাটিও কলকাতা হাইকোর্টে ফেরত পাঠিয়েছে। স্বচ্ছতা বজায় রাখার জন্য ২৪ ঘন্টার মধ্যে OMR শিট প্রকাশের নির্দেশকে অনেক আইনজীবী গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেছেন।

আইনজীবী সুদীপ্ত দাশগুপ্ত, বিক্রম বন্দোপাধ্যায় এবং বৈভব রায় বলেছেন যে সুপ্রিম কোর্ট মেয়াদোত্তীর্ণ প্যানেল থেকে নিয়োগকে অবৈধ বলে অভিহিত করেছে। অথচ, WBSSC মেয়াদোত্তীর্ণ প্যানেল থেকে চাকরি পাওয়া শিক্ষকদের আবার পরীক্ষায় বসতে সুযোগ দিয়েছে। তারা সাদা OMR, মেধা তালিকা নিচ থেকে লাফিয়ে উপরে এসে চাকরি পাওয়া, প্যানেলের বাইরে থেকে চাকরি পাওয়া শিক্ষকদের নাম প্রকাশ করলেও, প্যানেলের মেয়াদ ফুরনোর পর চাকরি পাওয়া লোকেদের তালিকা প্রকাশ করেনি। চলতি নিয়োগের উত্তরপত্র প্রকাশের আর্জিও জানান আইনজীবীরা।

এসএসসিও কার্যত মেনে নিয়েছে যে এই ধরণের প্রার্থীদের পরীক্ষায় বসার সুযোগ দেওয়া হয়েছে, কারণ পশ্চিমবঙ্গ এসএসসি যুক্তি দিয়েছিল যে এই প্রার্থীরা কলঙ্কিত নন। এই বক্তব্য শোনার পর বিচারপতি অমৃতা সিনহা পুরাতন প্যানেল থেকে চাকরি পাওয়া প্রার্থীদের নাম তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেছেন। এসএসসি কৌশলবিদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় আগেই বলেছিলেন যে ডিসেম্বরের মধ্যে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা উচিত। আদালত যদি সমস্ত অভিযোগ বিবেচনা করে, তাহলে সময়সীমার মধ্যে নিয়োগ সম্পন্ন করা কঠিন হবে। এই কথা শুনে বিচারপতি অমৃতা সিনহা এসএসসি কৌশলবিদকে বলেন, “তাহলে প্রথম দিন থেকেই নিয়োগ প্রক্রিয়া স্বচ্ছ রাখুন। আপনি প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করতে চান। তাহলে অনিয়মের সমস্ত অভিযোগ উঠবে, সমস্ত বাধা এসে জড়ো হবে। নিয়োগ প্রক্রিয়া স্বচ্ছ ও পরিচ্ছন্ন রাখুন।”

‘দাগি’ শিক্ষক পরীক্ষায় বসেছিলেন বলে অভিযোগ করে ইতিমধ্যেই বিচারপতি অমৃতা সিনহার আদালতে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। সেখানেও, এসএসসি কমপক্ষে দুজন ‘দাগি’ শিক্ষককে পরীক্ষায় বসতে দেওয়ার কথা স্বীকার করেছে। তারা সেই সুযোগ দেওয়ার কারণও জানিয়েছে। সেই মামলায় বিচারপতি সিং নির্দেশ দিয়েছিলেন যে ‘দাগি’ শিক্ষকদের নাম, অভিভাবকদের নাম, বিষয়, স্কুল ইত্যাদি তথ্য সহ একটি বিস্তারিত তালিকা প্রকাশ করা হোক। এসএসসি এবং রাজ্য সেই আদেশের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করে। কিন্তু সুপ্রিম কোর্ট হস্তক্ষেপ করেনি। বরং, সুপ্রিম কোর্ট বলেছে যে হাইকোর্ট নিশ্চিত করবে যে কোনও ‘দাগি’ শিক্ষক পরীক্ষা দেবেন না। আজকের আদালতের আদেশের পর, একজন বেকার শিক্ষক বলেন, “আমাদের কাছে ওএমআরের কার্বন কপি আছে। এসএসসি ওএমআর প্রকাশ করলে কোনও আপত্তি নেই। কিন্তু কোন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় সকলের ওএমআর প্রকাশিত হয়?”

মেয়াদোত্তীর্ণ প্যানেল থেকে চাকরি প্রাপকদের তালিকা প্রকাশের আদেশ সম্পর্কে সঙ্গীতা সাহা নামে একজন শিক্ষিকা বলেন, “এই আদেশও অর্থহীন।” সেই গেজেটে লেখা ছিল যে প্যানেল এক বছরের জন্য বৈধ। হাইকোর্টের মামলার কারণে কাউন্সেলিং মেয়াদ শেষ হয়ে গিয়েছিল। প্যানেল প্রকাশের পর হাইকোর্ট ছয় মাসের জন্য কাউন্সেলিং বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয়। তারপর কোভিড এসেছিল। বিলম্বের জন্য সমস্ত নথিপত্র রয়েছে। প্যানেলের মেয়াদ শেষ হওয়ার জন্য প্রার্থীরা দায়ী নন।

সুপ্রিম কোর্ট সম্পর্কে তার বক্তব্য- “চাকরিহারা শিক্ষক চিন্ময় মণ্ডল সুপ্রিম কোর্টে দাঁড়িয়ে বলেছিলেন যে তিনি নতুনদের সাথে পরীক্ষা দেবেন না। সেই সময় বলেছিল যে এই পরীক্ষা সকলের জন্য উন্মুক্ত। এখন কেন সুপ্রিম কোর্ট এসএসসি পরীক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে? পুরো বিষয়টিতে রাজনীতি জড়িত বলে দাবি করে সঙ্গীতা বলেন, ‘সুপ্রিম কোর্ট এবং হাইকোর্টে আমাদের টেনিস বলের মতো ঘুরতে হচ্ছে’।

আরেকজন চাকরিহারা শিক্ষক বলেন, ‘যারা চাকরি চুরি করেছে তারা সবাই জামিন পাচ্ছে’। আর আমাদের আবার পরীক্ষা দিতে হচ্ছে। পরীক্ষা দেওয়ার পরেও আমরা শান্তিতে নেই।

প্রার্থীদের দায়ের করা আবেদনের শুনানি করে বিচারপতি অমৃতা সিনহা বলেন, কমিশনকে নিশ্চিত করতে হবে যে “যেকোনও অবৈধতা দূর করার জন্য প্রথম পর্যায় থেকেই নিয়োগ প্রক্রিয়াটি সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ”। ১০ ডিসেম্বর বিষয়টি আবার তোলা হবে।

IPL 2026 Auction Set for Mid-December: Retention Deadline Likely November 15

প্রেস রিলিজ | অবিলম্বে প্রকাশযোগ্য

আইপিএল ২০২৬: ডিসেম্বরের মাঝামাঝি নিলাম, ১৫ নভেম্বর হতে পারে খেলোয়াড় ধরে রাখার শেষ তারিখ

IPL 2026 Mini-Auction Scheduled for Mid-December

মুম্বাই ও বেঙ্গালুরু সম্ভাব্য ভেন্যু, দলগুলোর জন্য শুরু হয়েছে প্রস্তুতির তোড়জোড়

নয়াদিল্লি, ২১ অক্টোবর ২০২৫ — আইপিএলের ১৯তম আসরের জন্য মিনি-নিলাম ১৪ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, সূত্রের বরাতে জানা গেছে। ১৩ ডিসেম্বর-কেও বিকল্প দিন হিসেবে রাখা হয়েছে, যদি নিলাম দুই দিনব্যাপী হয়।

ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলিকে জানানো হয়েছে যে ১৫ নভেম্বর হতে পারে খেলোয়াড় ধরে রাখার শেষ সময়সীমা, যা দল গঠনের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।

গত দুই বছর দুবাই (২০২৪) ও জেদ্দা (২০২৫)-তে নিলাম অনুষ্ঠিত হলেও, এবার নিলাম ভারতেই অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। মুম্বাই ও বেঙ্গালুরু এই মুহূর্তে শীর্ষ ভেন্যু হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

কোন দল কতটা চাপে?

২০২৬ সালের নিলামটি বেশ কয়েকটি দলের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, বিশেষ করে যারা ২০২৫ আসরে হতাশাজনক পারফরম্যান্স করেছে।

চেন্নাই সুপার কিংস (CSK), যারা গত আসরে শেষ স্থানে ছিল, এবার রবিচন্দ্রন অশ্বিনের অবসর-এর ফলে বড় অঙ্কের বাজেট নিয়ে মাঠে নামবে।

রাজস্থান রয়্যালস (RR), যারা দ্বিতীয়-শেষ স্থানে ছিল, তাদের নিয়মিত অধিনায়ক সঞ্জু স্যামসন-কে নিয়ে ট্রেডের গুঞ্জন রয়েছে, যা দল গঠনে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।

রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু (RCB), ১৮ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে প্রথমবারের মতো শিরোপা জিতেছে। রজত পাতিদার-এর নেতৃত্বে দলটি এবার শিরোপা ধরে রাখার লক্ষ্যে এগোবে।

কৌশলগত সিদ্ধান্তের সময়

নিলামের আগে দলগুলোকে নিতে হবে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত—অপারফর্মিং খেলোয়াড়দের ছেড়ে দেওয়া, উদীয়মান প্রতিভা খোঁজা এবং স্কোয়াডের ভারসাম্য বজায় রাখা।

এই নিলাম হবে দলগুলোর জন্য একটি নতুন সূচনা, যেখানে অভিজ্ঞতা ও তরুণ প্রতিভার মিশ্রণে তৈরি হবে আগামী আইপিএল জয়ের রূপরেখা।

আইপিএল সম্পর্কে

আইপিএল বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় টি-২০ ক্রিকেট টুর্নামেন্ট, যা তার উত্তেজনাপূর্ণ ম্যাচ, বৈশ্বিক দর্শকসংখ্যা এবং গতিশীল নিলাম প্রক্রিয়ার জন্য পরিচিত। ২০২৬ আসর হবে এই টুর্নামেন্টের ১৯তম সংস্করণ।

মিডিয়া যোগাযোগ:

আইপিএল গভর্নিং কাউন্সিল
ইমেইল: [email protected]
ওয়েবসাইট: www.iplt20.com

IPL 2026 Auction Set for Mid-December: Retention Deadline Likely November 15

Pramathesh Mukherjee Ex MP of Baharampur Passes away

Pramathesh Mukherjee Ex MP of Passes away

Pramathesh Mukherjee Ex MP Baharampur Passes away

Pramathesh Mukherjee: বহরমপুরের প্রাক্তন সাংসদ প্রয়াত হলেন

নিজস্ব সংবাদদাতা- বহরমপুর: বহরমপুরের প্রাক্তন সাংসদ শ্রী প্রমথেশ মুখার্জী প্রয়াত হলেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল 79 বছর। বেশ কিছুদিন ধরেই তিনি ফুসফুসের সমস্যায় ভুগছিলেন। চিকিৎসার জন্য তিনি কলকাতার একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি হন এবং গত সোমবার তার মৃত্যু হয়।

Pramathesh Mukherjee (প্রমথেশ মুখার্জি)র জন্ম ১৯৪৬ সালের ১৭ই জানুয়ারি একটি সাধারণ মধ্যবিত্ত পরিবারে। তাঁর পিতা সত্যব্রত মুখার্জি ছিলেন পাঁচথুপি টিএন ইনস্টিটিউশনের শিক্ষক এবং মা ছিলেন একজন গৃহবধূ। ১৯৬৮ সালে তিনি মুর্শিদাবাদের কান্দি রাজ কলেজ থেকে বিএসসি পাস করেন। বিএসসি পাস করার পর তিনি সুন্দরপুর হাইস্কুলে শিক্ষকতা শুরু করেন। শিক্ষকতার পাশাপাশি তিনি আবার পড়াশোনাও শুরু করেন এবং স্পেশাল বিএ পাস করেন। তারপরে বেলুড় কলেজ থেকে বিএড করেন।

পরবর্তীতে Pramathesh Mukherjee কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমএ পাস করেন। ছাত্রজীবন থেকেই তিনি আরএসপি ছাত্র সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। পরবর্তীতে শিক্ষকতার পাশাপাশি তিনি আর.এস.পি-দলের সংগঠক হিসাবে নিযুক্ত হয়েছিলেন। তারপরে তিনি বহরমপুরে চলে আসেন এবং খাগড়া গুরুদাস তারা সুন্দরী ইনস্টিটিউশনে ইংরেজি শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন। এখানে এসে তিনি শিক্ষকতার পাশাপাশি রাষ্ট্রবিজ্ঞানে এমএ পাস করেন। তারপরে তিনি দীর্ঘদিন গবেষণাতেও যুক্ত ছিলেন।

তাঁর রাজনৈতিক জীবন:

তিনি বহরমপুরের সাংসদ হিসেবে নির্বাচিত হন। ফেনী তিনি পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী শ্রী সিদ্ধার্থ শংকর রায় কে হারিয়ে সাংসদ পদে নির্বাচিত হয়েছিলেন। বহরমপুর লোকসভা কেন্দ্র থেকে তিনি তিন তিনবার জয়লাভ করেন। ১৯৯৪, ১৯৯৬ এবং ১৯৯৮ সালে তিনি আরএসপি দলের হয়ে লোকসভা নির্বাচনে বিপুল ভোটে জয়লাভ করেছিলেন। ১৯৯৪ সালে বহরমপুরের তৎকালীন সাংসদ স্বাধীনতা সংগ্রামী মাননীয় ননী ভট্টাচার্য প্রয়াত হন। ১৯৯৪ সালের ১২ই মার্চ বহরমপুর আসনে উপনির্বাচন হয়।

সেই উপনির্বাচনে কংগ্রেসের প্রতীকে দাঁড়িয়েছিলেন সিদ্ধান্ত শংকর রায়। তাঁকে হারিয়ে তিনি বিপুল ভোটে জয়লাভ করেছিলেন। ১৯৯৮ সালে গুজরাল সরকারের পতন হলে ফের লোকসভা নির্বাচন হয়। ১৯৯৮ সালের দ্বাদশ সাধারণ নির্বাচনী তিনি নির্বাচিত হন সাংসদ হিসেবে। ১৯৯৯ সালে প্রমথেশ মুখার্জি অধীর রঞ্জন চৌধুরীর কাছে হেরে যান। পরবর্তীতে ২০০৪ ও ২০০৯ সালের নির্বাচনে ভোটে লড়েছিলেন তিনি।

গত সোমবার কলকাতার একটি বেসরকারি হাসপাতালে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তার মৃত্যুতে শোক জ্ঞাপন করেছেন সাধারণ সম্পাদক মনোজ ভট্টাচার্য, জেলা সম্পাদক মোঃ নওফেল শফিউল্লাহ সহ আরোও অনেকে। তিনি সব মহলেই ভীষণভাবে আদরণীয় ছিলেন, তাঁর রাজনৈতিক নিষ্ঠা ও ভদ্র ব্যবহারের জন্য। প্রাক্তন সাংসদের মৃত্যুতে আরএসপি সহ বাম, ডানের অনেক নেতৃত্ব থেকে শুরু করে জেলার নেতারাও সকলেই শ্রদ্ধা জানিয়েছেন। মুর্শিদাবাদের বর্তমান তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ আবুল তাহের খান বহরমপুরের বিজেপি বিধায়ক সুব্রত মৈত্র ও অন্যান্য দলের নেতারাও শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন।

বহরমপুরের প্রাক্তন সাংসদ ও জাতীয় কংগ্রেসের প্রাক্তন প্রদেশ সভাপতি এবং লোকসভার বিরোধী দলনেতা শ্রী অধীর রঞ্জন চৌধুরী শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন। তিনি তাঁর আকস্মিক মৃত্যু সংবাদ শুনে তিনি অত্যন্ত ব্যথিত ও শোকাহত হন, এ কথা তিনি সোশ্যাল মিডিয়াতেও জানান। তিনি আরোও বলেন, উনার সাথে আমার রাজনৈতিক লড়াই ছিল, কিন্তু তিনি আমার কাছে শ্রদ্ধেয় ব্যক্তিত্ব ছিলেন। তাঁর জ্ঞান, শিক্ষা, ভদ্রতা ও সংস্কৃতিবোধ আমার স্মরণে অমলিন হয়ে আছে। তাঁর আকস্মিক প্রয়াণে তিনি তাঁর বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করেন।

Kazi Nazrul Islam-এর ১২৭তম জন্মদিনে শ্রদ্ধাঞ্জলি

 

বিদ্রোহ ও প্রেমের কবি: কাজী নজরুল ইসলামের ১২৭তম জন্মদিনে শ্রদ্ধাঞ্জলি

Poet of Rebellion and Love- Tributes paid to Kazi Nazrul Islam on his 127th birthday

Kazi Nazrul Islam-এর ১২৭তম জন্মদিনে শ্রদ্ধাঞ্জলি

নিজস্ব প্রতিবেদন- দিনাজপুর বার্তা: একদিকে বিদ্রোহ, অন্যদিকে প্রেম ও মানবতার অনন্ত সুর — এই দুই সুরের অপূর্ব সঙ্গম নজরুলের কবিতা, গান ও গদ্যে প্রতিফলিত হয়েছে। বাংলা সাহিত্যের আকাশে উজ্জ্বলতম নক্ষত্রদের মধ্যে অন্যতম কাজী নজরুল ইসলাম। তিনি শুধু কবি ছিলেন না, ছিলেন একজন বিপ্লবী, একজন সুরকার, গীতিকার, নাট্যকার, সাংবাদিক ও সমাজচিন্তক। তাঁর সৃষ্টি বাংলা সাহিত্য, সঙ্গীত ও সংস্কৃতির ক্ষেত্রে এক নবজাগরণের সূচনা করেছিল।

শৈশব ও সংগ্রামী জীবন

১৮৯৯ সালের ২৫ মে (বাংলা ১১ জ্যৈষ্ঠ, ১৩০৬) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন নজরুল। পিতা কাজী ফকির আহমদ ছিলেন স্থানীয় মসজিদের ইমাম। অল্প বয়সেই বাবাকে হারিয়ে নজরুলের জীবন শুরু হয় চরম দারিদ্র্য, সংগ্রাম ও কঠোর বাস্তবতার মধ্যে দিয়ে। মক্তবের পাঠ, মসজিদে ইমামতি, লেটো গানে অংশগ্রহণ, রুটির দোকানে কাজ — এইসব অভিজ্ঞতাই পরবর্তীতে তাঁর সাহিত্যে জীবন ও বাস্তবতার গভীর ব্যঞ্জনা এনে দেয়।

তরুণ বয়সে সেনাবাহিনীতে যোগদান এবং সেখানে থাকতে থাকতেই তাঁর মধ্যে সাহিত্যের প্রতি এক দুর্নিবার আকর্ষণ জন্ম নেয়। কবিতা, গল্প, নাটক লিখতে শুরু করেন তিনি। এরপর “সওগাত”, “বিজলি”, “মোসলেম ভারত”, “নবযুগ” পত্রিকায় তাঁর লেখা ছাপা হতে থাকে।

বিদ্রোহের আগুন: “বিদ্রোহী” কবি:

১৯২২ সালে প্রকাশিত “বিদ্রোহী” কবিতার মাধ্যমে বাংলা সাহিত্যে এক প্রলয়ংকরী শক্তির আবির্ভাব ঘটে। কবিতার প্রতিটি চরণ যেন ধ্বংস ও সৃজনের যুগপৎ ঘোষণা। এটি ছিল কেবল একটি কবিতা নয়, বরং একটি আন্দোলনের ঘোষণাপত্র। উপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে, সমাজের অন্যায়, কুসংস্কার, বৈষম্য, শোষণের বিরুদ্ধে তাঁর কলম জ্বলে ওঠে আগুন হয়ে। “আমি বিদ্রোহী ভৃগু, ভগবান বুকে এঁকে দিই পদচিহ্ন” — এই অমর উচ্চারণের মধ্য দিয়ে নজরুল যুগ যুগান্তরের বিদ্রোহের প্রতীক হয়ে ওঠেন।

সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে সোচ্চার কণ্ঠ:

নজরুল ছিলেন সম্পূর্ণ অসাম্প্রদায়িক, মানবতাবাদী এবং উদারচেতা। যখন হিন্দু-মুসলমানের মধ্যে দাঙ্গা ছড়িয়ে পড়ে, তখন নজরুলের কলম দ্বিধাহীনভাবে সেই বিভেদকে আঘাত করে। তাঁর লেখা “ধর্ম নয়, মানুষ বড়” কিংবা “হিন্দু না ওরা মুসলিম? ওই জিজ্ঞাসে কোন জন? কাণ্ডারী! বল, ডুবিছে মানুষ— সন্তান মোর মার” — আজকের এই ধর্ম-বিভেদের অস্থির সময়েও সমানভাবে প্রাসঙ্গিক।

তিনি বিশ্বাস করতেন, ধর্মের মূল উদ্দেশ্য হলো মানবতার সেবা। সেই জন্যই তিনি একদিকে লিখেছেন ইসলামী গান, হামদ, নাত, আবার অন্যদিকে শ্যামা সঙ্গীত, কীর্তন, ভক্তিগীতি। তাঁর মতো এমন এক অসাম্প্রদায়িক চেতনার ধারক ও বাহক আজও বিরল।

প্রেম ও মানবতার কবি:

যতটা না তিনি একজন বিদ্রোহী, ততটাই একজন প্রেমিক ও মানবতাবাদী। নজরুলের কবিতায় প্রেম শুধু রোমান্টিকতার আবেশে সীমাবদ্ধ নয়; বরং তা গভীর এক মানবিক বোধের প্রতিফলন। তাঁর প্রেমের কবিতা, গান, গদ্য সাহিত্যে মানব জীবনের পরম সত্য ও সৌন্দর্যের কথা উচ্চারিত হয়েছে। নজরুলের সৃষ্ট “ভালোবাসা” মানে শুধু নারী-পুরুষের সম্পর্ক নয়, বরং এক বিশ্বমানবতার প্রেম যেখানে সব বাধা, বিভেদ, শ্রেণি, জাতি, ধর্ম মুছে যায়।

সঙ্গীত সাধনা ও নজরুলগীতি:

নজরুল ছিলেন এক অপ্রতিম সুরস্রষ্টা। প্রায় ৪,০০০-এর বেশি গান তিনি রচনা করেছেন। তাঁর সংগীতচর্চা বাংলা সঙ্গীতের ক্ষেত্রে এক যুগান্তকারী পরিবর্তন আনে। “নজরুলগীতি” নামে যেসব গান আজ আমাদের হৃদয় ও সমাজে গভীর প্রভাব ফেলেছে, সেগুলোর বৈচিত্র্য, ছন্দ, রাগ-রাগিণীর ব্যবহার এবং ভাবগত গভীরতা বাংলা গানের ভাণ্ডারকে করেছে সমৃদ্ধ ও সমুজ্জ্বল।

তিনি আরবি, ফার্সি, হিন্দি, উর্দু, সংস্কৃত ও বাংলা ভাষার অনন্য মিশ্রণে এক অপূর্ব সংগীত জগৎ সৃষ্টি করেন। “চাষার ঘরে এলোরে খুশির ঈদ”, “দেখো রে চাহিয়া মন উজান বয়ে যায়”, “করো মোরে ক্ষমা”, “মোর প্রিয়ার চরণ ধুই”, “আমার হাতে কলম আমি চিত্রকর” — প্রতিটি গান যেন হৃদয়ের গভীর স্পন্দন।

রাজনৈতিক চেতনা ও সাংবাদিকতা:

নজরুলের রাজনৈতিক চেতনা ছিল প্রচণ্ডভাবে প্রগতিশীল এবং গণমুখী। তিনি ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে অকুণ্ঠ সাহসিকতায় কথা বলেছেন। তাঁর সম্পাদিত পত্রিকা ধুমকেতু ব্রিটিশদের মনে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছিল। “আনন্দময়ীর আগমনে” নামে একটি প্রবন্ধ লেখার জন্য তাঁকে গ্রেফতার করা হয় এবং দীর্ঘ সময় জেলবাস করতে হয়।

জেল থেকে লেখা তাঁর বিখ্যাত কবিতা “রাজবন্দীর জবানবন্দী” তাঁর অদম্য আত্মবিশ্বাস, সাহস এবং সততার অনন্য দলিল। তিনি লিখেছেন — “আমি চির বিদ্রোহী বীর, বিশ্ব ছাড়ায়ে উঠিয়াছি একা চির-উন্নত শির!” এমন ভাষা বাংলা সাহিত্য আগে কখনও শোনেনি।

ব্যক্তিজীবনের ট্র্যাজেডি ও নীরবতা:

খুব কম সময় পেয়েছিলেন তিনি, মাত্র ২৩টি বছর। তাঁর আশ্চর্য প্রতিভায় মুখরিত সাহিত্য-সঙ্গীত ব্যবহার করে এবং ঔপনিবেশিক-রাজনৈতিক শাসনের সাম্প্রদায়িক ভাষ্যের অসির সাথে তিনি মসি দিয়ে যুদ্ধ করেছেন যতদিন স্নায়ুরোগে মস্তিষ্ক নিষ্ক্রিয় হয় নি। ১৯৪২ সালে তিনি দুরারোগ্য স্নায়ুরোগে আক্রান্ত হন এবং বাকশক্তি হারান। এরপর দীর্ঘ ৩৪ বছর তিনি ছিলেন নীরব, নির্বাক, অথচ তাঁর উপস্থিতি ছিল বলিষ্ঠ।

বাংলাদেশ সরকার ১৯৭২ সালে তাঁকে জাতীয় কবির মর্যাদা দেয় এবং সপরিবারে তাঁকে বাংলাদেশে নিয়ে আসে। ঢাকায় ১৯৭৬ সালের ২৯ আগস্ট তিনি শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

নজরুলের চেতনার প্রাসঙ্গিকতা:

কাজী নজরুল আজও প্রবলভাবে প্রাসঙ্গিক, রবীন্দ্রনাথের মতন। আজকের ধর্ম-বিভেদের এই অস্থির সময়ে তিনি যেন মহীরুহ হয়ে পাশে দাঁড়ান। তাঁর কণ্ঠ আজও বলে— ‘মানুষের চেয়ে বড় কিছু নাই, নহে কিছু মহীয়ান’। সমাজ যখন বিদ্বেষ, হিংসা ও ঘৃণায় পুড়ে যাচ্ছে, তখন নজরুলের লেখা আমাদের এক নতুন আলোর পথ দেখায়। তিনি আমাদের শেখান— ভালোবাসা, প্রতিবাদ এবং সহমর্মিতা কিভাবে একসাথে বাঁচে।

উপসংহার:

কাজী নজরুল ইসলাম ছিলেন বাংলা ভাষার এক মহাবিস্ময়। তাঁর বিদ্রোহ কেবলমাত্র শাসকের বিরুদ্ধে নয়, সমস্ত অনাচার, বৈষম্য, হীনতা ও সংকীর্ণতার বিরুদ্ধে। তাঁর প্রেম কেবল কোন নারীর প্রতি নয়, সমগ্র মানবজাতির প্রতি।

আজ যখন আমরা তাঁর ১২৭তম জন্মদিনে শ্রদ্ধা জানাই, তখন মনে রাখতে হবে — নজরুল শুধু অতীত নন, তিনি ভবিষ্যতেরও পথপ্রদর্শক।

Poet of Rebellion and Love: Tributes paid to Kazi Nazrul Islam on his 127th Birthday