Indian Ministry of Railways পশ্চিমবঙ্গের জন্য একাধিক সংযোগ প্রকল্পের ঢালাও অনুমোদন
পশ্চিমবঙ্গের জন্য একাধিক রেল প্রকল্প অনুমোদন ভারতীয় রেল মন্ত্রকের
নিজস্ব সংবাদদাতা-কলকাতা: ভারতীয় রেল মন্ত্রক (Indian Ministry of Railways) পশ্চিমবঙ্গের জন্য একাধিক সংযোগ প্রকল্প অনুমোদন করেছে, যার মধ্যে একটি নতুন জয়পুরগামী ট্রেন এবং রাজ্যজুড়ে গুরুত্বপূর্ণ রেল পরিকাঠামোর আধুনিকীকরণ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
পশ্চিমবঙ্গে মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে বিজেপি সরকার গঠনের এক সপ্তাহ কালে, মাননীয় কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব (Ashwini Vaishnaw) মহাশয় পশ্চিমবঙ্গে রাজ্য সরকারকে একাধিক রেল প্রকল্পের অনুমোদনের বিষয়ে অবহিত করেছেন। এই প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে একটি নতুন কলকাতা-জয়পুর ট্রেন পরিষেবা, শালিমার ও অযোধ্যার মধ্যে তৃতীয় রেললাইন স্থাপনের সমীক্ষা এবং নিউ জলপাইগুড়ি-শিলিগুড়ি করিডোরে রেললাইন দ্বৈতকরণের কাজ।
পশ্চিমবঙ্গের উন্নয়নে ডাবল ইঞ্জিন সরকারের ঢালাও পদক্ষেপ
ভারতীয় রেল মন্ত্রকের পক্ষ থেকে মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে উদ্দেশ্য করে পাঠানো পৃথক পৃথক চিঠির মাধ্যমে এই অনুমোদনের বিষয়গুলি জানানো হয়। এই পদক্ষেপগুলোকে রাজ্যে নবগঠিত বিজেপি সরকারের জন্য পরিকাঠামো উন্নয়নের ক্ষেত্রে একটি প্রাথমিক ও জোরালো উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে; যার মূল লক্ষ্য হলো দক্ষিণ ও উত্তরবঙ্গের মধ্যে রেল যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি ঘটানো।
গুরুত্বপূর্ণ অনুমোদনের তালিকায় – জয়পুরগামী ট্রেন ও অযোধ্যা সমীক্ষা
উক্ত চিঠিগুলোর একটিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, রেল মন্ত্রক খড়গপুরের ওপর দিয়ে কলকাতার সাঁতরাগাছি এবং জয়পুরের খাতিপুরার মধ্যে একটি নতুন ট্রেন পরিষেবা অনুমোদন করেছে। ওই চিঠিতে জানানো হয়েছে যে, রেল যোগাযোগ ব্যবস্থা জোরদার করার লক্ষ্যে আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে খড়গপুরের ওপর দিয়ে চলাচলকারী ১৮০৬১ ও ১৮০৬২ নম্বর সাঁতরাগাছি-বানারিপাড়া এক্সপ্রেস ট্রেন দুটির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রক হাওড়ার সাঁতরাগাছি এবং জয়পুরের খাতিপুরার মধ্যে একটি নতুন সাঁতরাগাছি-খাতিপুরা এক্সপ্রেস (১৮০৬১/১৮০৬২) সাপ্তাহিক ট্রেন পরিষেবা অনুমোদন করেছে।
এই রুটটি পশ্চিমবঙ্গ, ঝাড়খণ্ড এবং রাজস্থানের মধ্যে সংযোগ স্থাপন করবে। প্রতি বুধবার দুপুর ২:১৫ মিনিটে সাঁতরাগাছি থেকে ছেড়ে এটি পরের দিন রাত ১১:০০ টায় খাতিপুরা পৌঁছাবে। ট্রেনটি সাঁতরাগাছি থেকে ছেড়ে খড়্গপুর, টাটানগর, রাঁচি, প্রয়াগরাজ, কানপুর, আগ্রা এবং বান্দিকুই হয়ে জয়পুরের খাতিপুরায় পৌঁছাবে। ফেরার পথে, খাতিপুরা থেকে শুক্রবার সকাল ৯:২০ মিনিটে রওনা হয়ে শনিবার সন্ধ্যা ৭:৪৫ মিনিটে সাঁতরাগাছি পৌঁছাবে।
এর ফলে হাওড়া স্টেশনের ওপর চাপ কমানোর পাশাপাশি এই রুটটি দক্ষিণবঙ্গ ও ঝাড়খণ্ডের যাত্রীদের সরাসরি রাজস্থানে যাতায়াত অনেক সহজ করবে। বিশেষ করে রাজস্থানে কর্মরত শ্রমিক, ব্যবসায়ী এবং পর্যটকদের জন্য এটি অত্যন্ত উপযোগী হবে।
আরেকটি চিঠিতে বৈষ্ণব মুখ্যমন্ত্রী অধিকারীকে জানান যে, শালিমার ও অযোধ্যার মধ্যে প্রস্তাবিত তৃতীয় রেললাইনটির ‘বিস্তারিত প্রকল্প প্রতিবেদন’ (DPR) তৈরির লক্ষ্যে ‘চূড়ান্ত স্থান সমীক্ষা’ (Final Location Survey) চালানোর অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
প্রস্তাবিত এই রেলপথটির দৈর্ঘ্য প্রায় ১০৭ কিলোমিটার এবং আশা করা হচ্ছে যে, ভবিষ্যতে পশ্চিমবঙ্গের রেল সম্প্রসারণ পরিকল্পনায় এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠবে। প্রকল্পটি বাস্তবায়নের আগে এই সমীক্ষাকে একটি প্রাথমিক, তবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
নিউ জলপাইগুড়ি-শিলিগুড়ি রেললাইন দ্বৈতকরণ (Doubling)
মাননীয় কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী উত্তরবঙ্গের নিউ জলপাইগুড়ি-শিলিগুড়ি রেললাইনে দ্বৈতকরণের (Doubling) কাজ শুরু করার অনুমোদনের বিষয়টিও নিশ্চিত করেছেন।
এই প্রকল্পটি প্রায় ৭.১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ একটি অংশ জুড়ে বিস্তৃত এবং এর মূল উদ্দেশ্য হলো পূর্ব ভারতের অন্যতম ব্যস্ত এই রেল করিডোরে যানজট কমানো ও ট্রেনের চলাচল আরও মসৃণ করা। উত্তর-পূর্ব ভারত এবং উত্তরবঙ্গ অঞ্চলের মধ্যে রেল যোগাযোগ স্থাপনের ক্ষেত্রে নিউ জলপাইগুড়ি (NJP)-শিলিগুড়ি অংশটি কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
উল্লিখিত তিনটি চিঠিতেই পশ্চিমবঙ্গের রেল পরিকাঠামো ও সংযোগ প্রকল্পগুলো নিয়ে পূর্বে অনুষ্ঠিত আলোচনার প্রসঙ্গ উল্লেখ করা হয়েছে। উল্লিখিত চিঠিগুলো সরাসরি মুখ্যমন্ত্রীর পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দীগ্রামে অবস্থিত দপ্তরে পাঠানো হয়েছে।

