R. G. Kar Doctor Case নিয়ে অনিশ্চয়তা কলকাতা হাইকোর্টে – নতুন বেঞ্চ ঠিক করবেন প্রধান বিচারপতি

R.G. Kar Doctor Case আরজি কর হাসপাতালের চিকিৎসক খুনের মামলাকে ঘিরে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হল কলকাতা হাইকোর্টে
নিজস্ব সংবাদদাতা – কলকাতা: ২০২৪ সালের আগস্টে কলকাতার আরজি কর (R.G. Kar) হাসপাতালের তরুণী চিকিৎসক খুন ও ধর্ষণ মামলার ভবিষ্যৎ কলকাতা হাইকোর্টে নতুন করে অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। মামলাটি শুনানির তালিকা থেকে সরিয়ে নিয়েছেন বিচারপতি দেবাংশু বসাক এবং বিচারপতি মহম্মদ শাব্বর রশিদির ডিভিশন বেঞ্চ। বেঞ্চের মতে, এটি এখন তাদের বিচার্য বিষয় নয়, ফলে মামলাটি প্রধান বিচারপতির কাছে পাঠানো হয়েছে।
বিচারপতি দেবাংশু বসাক (Justice Debangshu Basak) এদিন জানান, মামলাটি শুনানির জন্য আদালতে একাধিকবার উল্লেখ করা হয়েছে। প্রধান বিচারপতির কাছেও ই-মেল পাঠিয়ে বিষয়টি জানানো হয়েছিল। তবে মামলাটি দীর্ঘদিন ধরে চলছে এবং এতে একাধিক দিক রয়েছে। সব দিক খতিয়ে দেখতে সময় লাগবে। তাই এই বেঞ্চে দ্রুত শুনানি শেষ করা সম্ভব নয় বলেই মনে করছে আদালত। সেই কারণেই সংশ্লিষ্ট সব মামলা অন্য বেঞ্চে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এখন এই মামলার পরবর্তী শুনানি কোন বেঞ্চে হবে, তা ঠিক করবেন হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি। আদালতের এই সিদ্ধান্তের পর নতুন করে আবার মামলার তালিকা তৈরি করা হবে বলে জানা গেছে।
R.G. Kar Doctor Case মুখ্য বিষয়সমূহ:
বেঞ্চ থেকে সরে দাঁড়ানো: বিচারপতি দেবাংশু বসাকের নেতৃত্বাধীন ডিভিশন বেঞ্চ এই চাঞ্চল্যকর মামলার শুনানি থেকে সরে দাঁড়িয়েছে।
অনিশ্চয়তা ও বিলম্ব: মামলার দ্রুত শুনানির আবেদন করা হলেও, বেঞ্চ সরে দাঁড়ানোয় এবং নতুন বেঞ্চ ঠিক হওয়ার অপেক্ষায় মামলার ভবিষ্যৎ আরও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
মামলার ধরণ: এই বেঞ্চে অভিযুক্ত সঞ্জয় রায়ের সর্বোচ্চ সাজা (মৃত্যুদণ্ড) চেয়ে সিবিআই ও নিহতের পরিবারের আবেদনের পাশাপাশি অন্যান্য আনুষঙ্গিক বিষয়গুলিও বিচারাধীন ছিল।
পরবর্তী পদক্ষেপ: মামলাটি এখন প্রধান বিচারপতি সুজয় পালের কাছে পাঠানো হয়েছে, যিনি শীঘ্রই শুনানির জন্য নতুন বেঞ্চ নির্ধারণ করবেন।
গত ৯ আগস্ট ২০২৪-এ আরজি কর হাসপাতালের সেমিনার হল থেকে চিকিৎসক তরুণীর মৃতদেহ উদ্ধার হয়, যার পর থেকে দীর্ঘ সময় ধরে এই মামলার আইনি লড়াই চলছে।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৯ আগস্ট আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে এক তরুণী চিকিৎসকের দেহ উদ্ধার হয়। ঘটনাটি সামনে আসতেই ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। অভিযোগ ওঠে, ওই চিকিৎসককে ধর্ষণের পর খুন করা হয়েছে। এই ঘটনায় সঞ্জয় রায় নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয় এবং পরে নিম্ন আদালত তাকে দোষী সাব্যস্ত করে আজীবন কারাদণ্ডের নির্দেশ দেয়।
তবে এই রায়ে সন্তুষ্ট নন নিহত চিকিৎসকের বাবা-মা। তাদের দাবি, তদন্তে এখনও অনেক প্রশ্নের উত্তর মেলেনি। তাদের মতে, ঘটনায় আরও কেউ জড়িত থাকতে পারে এবং আসল অপরাধীদের খুঁজে বের করা দরকার। পাশাপাশি ঘটনাস্থল থেকে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ নষ্ট হয়ে যাওয়ার অভিযোগও তোলেন তারা।
এই সব অভিযোগের ভিত্তিতে চিকিৎসকের পরিবার হাইকোর্টে নতুন করে মামলা দায়ের করে। সেই মামলাতেই তদন্তের গতি বাড়ানো এবং পুরো ঘটনার পুনরায় খতিয়ে দেখার দাবি জানানো হয়। কিন্তু এখন সেই মামলাসহ সংশ্লিষ্ট অন্য সব মামলা থেকে সরে দাঁড়িয়েছে বিচারপতি দেবাংশু বসাকের ডিভিশন বেঞ্চ। ফলে মামলার পরবর্তী ধাপ কী হবে, তা নিয়ে এখন নজর রয়েছে আদালতের পরবর্তী সিদ্ধান্তের দিকে।
