কিংবদন্তি ভারতীয় তবলা সঙ্গীতজ্ঞ ৭৩ বছর বয়সে মারা গেছেন
প্রখ্যাত ভারতীয় তবলা বাদক জাকির হোসেন সান ফ্রান্সিসকোর একটি হাসপাতালে মারা গেছেন
নিজস্ব সংবাদদাতা: বিশ্বের অন্যতম সেরা তবলা বাদক জাকির হোসেন (Zakir Hossain) 73 বছর বয়সে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সান ফ্রান্সিসকোর একটি হাসপাতালে মারা যান।
তিনি গত দুই সপ্তাহ ধরে হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন এবং তার অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে আইসিইউতে নেওয়া হয়েছিল। গতকাল রবিবার ১৫ই ডিসেম্বর মারা যান, তাঁর পরিবার এক বিবৃতিতে এই খবর জানিয়েছেন (১৬ই ডিসেম্বর ২০২৪)। জানা যায়, তিনি ইডিওপ্যাথিক পালমোনারি ফাইব্রোসিসের কারণে মারা গেছেন।
বিশিষ্ট তবলা বাদক জাকির হোসেন তাঁর কর্মজীবনে বহু পুরস্কার পেয়েছেন। বহু দেশ-বিদেশে তিনি তবলা বাজিয়েছেন। তিনি শুধু তবলা বাদকই ছিলেন না তিনি একজন সুরকার, সংগীত প্রযোজক এবং অভিনেতাও ছিলেন। তিনি ১৯৫১ সালের ৯ মার্চ জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা আল্লা রাখা একজন বিখ্যাত তবলা মাদক ও বিশিষ্ট সংগীত শিল্পী ছিলেন।
তাঁর বর্ণাঢ্য কর্মজীবনের সময়, জাকির হোসেন সংগীতে তাঁর অবদানের জন্য অসংখ্য প্রশংসা অর্জন করেছিলেন। তিনি দেশ-বিদেশের বহু বিখ্যাত আন্তর্জাতিক ও ভারতীয় শিল্পীদের সাথে কাজ করেছিলেন। তিনি ১৯৮৮ সালে পদ্মশ্রী, ২০০২ সালের পদ্মভূষণ এবং ২০২৩ সালে ভারত সরকার কর্তৃক পদ্মবিভূষণ লাভ করেন।
তাছাড়াও তিনি ১৯৯০ সালে মর্যাদাপূর্ণ সংগীত নাটক একাডেমী পুরস্কার পান এবং ২০১৮ সালের ফেলোশিপও পেয়েছিলেন। তিনি মিকি হার্ট ও জিওভানি হিডালগোর সাথে তাঁর অ্যালবাম গ্লোবাল ড্রাম প্রজেক্ট এর জন্য ২০০৯ সালে একটি গ্র্যামি পুরস্কার জিতেছিলেন। তার কর্মজীবনে তিনি চারটি গ্র্যামি পুরস্কার পান।
সংগীতে তাঁর কৃতিত্ব ছাড়াও, তাঁর প্রভাব সাংস্কৃতিক কূটনীতিতে প্রসারিত হয়েছিল। তিনি 1999 সালে ইউনাইটেড স্টেটস ন্যাশনাল ইনভারমেন্ট ফর দা আর্টস দ্বারা ন্যাশনাল হেরিটেজ ফেলাসিপ পেয়েছিলেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ঐতিহ্যবাহী শিল্পীদের দেওয়া সর্বোচ্চ সম্মান পান।
জাকির হুসেন কত্থক নৃত্যশিল্পী এবং শিক্ষক আন্তোনিয়া মিনেকোলাকে বিয়ে করেছিলেন। তার দুটি কন্যা আছে। আনিশা কুরেশি এবং ইসাবেলা কুরেশি। আনিশা একজন চলচ্চিত্র নির্মাতা এবং ইসাবেলা নৃত্য অধ্যায়নরত।
জাকির হোসেনের মৃত্যু সংগীত জগতে একটি শূন্যতা তৈরি করল, এ বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই। এই শূন্যতা কখনোই পূরণ হওয়া সম্ভব নয়। তবলায় তাঁর উদ্ভাবনী শক্তি ও পদ্ধতি বিভিন্ন ধারায় তাঁর সহযোগিতা আগামী প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করবে।

